আমরা কী করি
যাই। বসিয়ে দিই। পাশে থাকি।
আমরা এলাকার মানুষকে — অনেকেই নারী — খুঁজে নিই, প্রশিক্ষণ দিই আর পাশে থাকি, যাতে তাঁরাই নিজের পাড়ার দোকানগুলোর আর্থিক দরজা হয়ে ওঠেন। বিক্রির জন্য একবারের যাওয়া না। টিকে থাকা একটা সম্পর্ক।
প্রিয় এজেন্ট আসলে বিশ্বাসের নেটওয়ার্ক, পেমেন্ট নেটওয়ার্কের ছদ্মবেশে।

আমাদের পদ্ধতি
একজন দোকানদারের জন্য আমরা পাঁচটা কাজ করি।
এই ক্রমেই, প্রতিবার। তৃতীয় ধাপটাই খাতটা বারবার এড়িয়ে যায়।
- ১
নিজে গিয়ে বসি, বাংলায় বলি, কোনো ভারী শব্দ ছাড়া
বসি। এক কাপ চা খাই। বুঝিয়ে বলি ডিজিটাল টাকা মানে কী আর সেটা কোথায় যায়। গলায় কার্ড নেই, মুখস্থ বুলি নেই, বিক্রির তাড়া নেই।
- ২
একবারেই ঠিকভাবে যুক্ত করি, সবার জন্য
বাংলা কিউআর, সঙ্গে খদ্দেরের হাতে যে ওয়ালেটগুলো আগে থেকেই আছে — একবার বসিয়ে দিলেই সব প্রোভাইডারে চলে, এক ব্র্যান্ডের স্টিকারের ওপর আরেকটা সাঁটাতে হয় না।
- ৩
পাশে থাকি
ব্যর্থ লেনদেন, ভুলে যাওয়া পিন, টাকা কখন ঢুকবে, হিসাব মিলছে না — সব। আমাদের মাপকাঠি দোকান চালু থাকা, কাগজ সই হওয়া না। আমরা টাকা পাই সচল লেনদেনে, সইয়ে না।
- ৪
লেনদেনের রেকর্ডটাকে সম্পদ বানাই
শুধু নগদে চলা দোকান ব্যবস্থার চোখে অদৃশ্য: কোনো রেকর্ড নেই, ঋণমান নেই, চলতি মূলধন নেই। প্রতি মাসের লেনদেনই এমন এক জামানত, যা দোকানদারের আগে কখনো ছিল না।
- ৫
বাকি সেবাগুলোও সঙ্গে নিয়ে আসি
সঞ্চয়, রেমিট্যান্স, বিমা, বিদ্যুৎ-পানির বিল, সরকারি ভাতা — বিশ্বাস দিয়ে যে দরজাটা খোলে, সেটা দিয়েই।
একটাই নিয়ম
আমরা টাকা পাই সচল লেনদেনে, সইয়ে না।
এটা ইচ্ছাকৃত, আর পুরো নকশাটাই এই। খাতের সমস্যা এটা না যে মার্চেন্ট যুক্ত হতে চায় না — সমস্যা হলো যুক্ত হয়ে আর কখনো লেনদেন করে না। প্রায় ২৩ কোটি ৭০ লাখ এমএফএস হিসাবের মধ্যে সক্রিয় মাত্র ৩৭.৬%। মার্চেন্ট পেমেন্ট ২০২১ সাল থেকে মোবাইলের টাকার ৫%-এর ঘরেই আটকে আছে।
যুক্ত করার সংখ্যায় পারিশ্রমিক পেলে আমরা ঠিক ওই ব্যর্থতাটাই আবার বানাতাম, যেটা সারাতে আমাদের জন্ম। তাই আমাদেরটা সেভাবে না।
- আমরা যা গুনি না
- কতটা কিউআর স্টিকার বসল। কতটা ফর্ম সই হলো। কতজন “যুক্ত” হলো।
- আমরা যা গুনি
- চার নম্বর সপ্তাহে যে দোকানে লেনদেন হচ্ছে। বারো নম্বরেও। বায়ান্ন নম্বরেও।
- এতে যা বদলায়
- দোকানদারকে বিভ্রান্ত রেখে আসার জন্য আমাদের দলে কেউ পুরস্কার পায় না।
দোকানদারদের জন্য
আপনি আসলে কী পাচ্ছেন।
লেখা হয়েছে কাউন্টারের পেছনে বসা মানুষের জন্য, কোনো ক্রয় কমিটির জন্য না।
সব ওয়ালেটে চলে এমন পেমেন্ট
একটাই বাংলা কিউআর — খদ্দের বিকাশ, নগদ, রকেট কিংবা ব্যাংকের অ্যাপ, যা দিয়েই দিন, টাকা একই ক্যাশবাক্সে আসে। একটার ওপর আরেকটা স্টিকারের স্তূপ নেই।
হেল্পলাইন না, একজন মানুষ
একই এজেন্ট, একই গলিতে, আগামী সপ্তাহেও। লেনদেন আটকে গেল, পিন ভুলে গেলেন, টাকা কখন ঢুকবে — আপনি একটা মানুষের মুখকে জিজ্ঞেস করবেন, আইভিআরের মেনুকে না।
যে রেকর্ড জামানত হয়ে ওঠে
মাসের পর মাসের লেনদেনের হিসাব — ঋণদাতারা সারাজীবন যেটা চেয়েছে আর আপনার যেটা কখনো ছিল না। “হবে না” শোনা আর শর্ত জানতে চাওয়ার মধ্যে তফাতটা এটাই।
বাংলায়, কঠিন শব্দ ছাড়া
টাকা কোথায় যায়, কখন ঢোকে, খরচ কত — দোকানের ভাষায় বুঝিয়ে দিই। আপনি না বুঝলে বোঝানোটাই এখনো শেষ হয়নি।
বাকি সেবা, যখন আপনি চাইবেন
সঞ্চয়, রেমিট্যান্স, বিমা, বিদ্যুৎ-পানির বিল, সরকারি ভাতা। আপনার ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া না — কাজে লাগলে তখন দেওয়া।
খরচের কিছুই লুকানো না
একটা সাবান বেচলে ডিসকাউন্ট রেট মুদি দোকানের কাছে যেভাবে গায়ে লাগে, সুপারশপের কাছে কখনো সেভাবে লাগে না। আমরা সংখ্যাটা আগেই মুখে বলে দিই।

এজেন্ট হোন
আপনার রাস্তার সবাইকে যদি আপনি চেনেন, তাহলে কাজের বড় অংশটা আপনার হয়েই গেছে।
আমরা এমন মানুষ খুঁজি, যাঁরা যেখানে কাজ করবেন সেখানেই থাকেন — আর নারীদের বিশেষভাবে খুঁজি, কারণ একজন নারী যখন আরেকজন নারী দোকানদারকে টাকার কথা বোঝান, শুধু তখনই বাংলাদেশের ২০ পয়েন্টের ব্যবধানটা নড়ে।
- যে ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডে কাজ করবেন, সেখানেই বা তার পাশেই আপনি থাকেন।
- স্মার্টফোন চালাতে অসুবিধা হয় না — বাকিটা আমরা শিখিয়ে দেব।
- যে দোকানদার আপনার ওপর বিরক্ত, তাঁর কাছেও আপনি আবার ফিরে যেতে রাজি।
- এই মাসে দশটা বিক্রির চেয়ে দশ বছরের বিশ্বাস আপনার কাছে বেশি দামি।
আমাদের বিচার করবেন যেভাবে
পাঁচ বছরে আমাদের সফলতার মাপকাঠি — কতগুলো হিসাব খোলা হলো, তা না।
০১
যে দোকানে ডিজিটাল কিছুই ছিল না, সেখানে প্রতি সপ্তাহে লেনদেন হচ্ছে।
০২
এমএফএসের টাকায় মার্চেন্ট পেমেন্টের অংশ ৫% থেকে নড়ছে।
০৩
যাঁরা আমাদের গড়ে দেওয়া রেকর্ডের জোরে জীবনের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পেয়েছেন।
০৪
আমাদের এজেন্ট আর যুক্ত করা দোকানদার — দুই দিকেই নারীর অংশ।
০৫
একই নেটওয়ার্ক দিয়ে শিক্ষা, খাবার আর ত্রাণ পাওয়া পরিবারের সংখ্যা।
আমরা আপনার কাছে যাই। আপনার ভাষায় বলি। সই হওয়ার পর চলে যাই না।
আমরা কী করি
একটা জেলা দিন। দোকানগুলো আমরা আনব।
কোথায় মার্চেন্ট পেমেন্ট দরকার বলুন, আর আমরা সৎভাবে বলে দেব সেটা চালু করতে — আর চালু রাখতে — আসলে কী লাগে।